১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ।। বৃহস্পতিবার ।। ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ।। নিবন্ধনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় আবেদনকৃত অনলাইন পত্রিকা www.jhalokathisomoy.com

সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছাড়া যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন-সম্পাদক

বালকের তৈরি প্রতিমায় গ্রামবাসীর পুজা

হাসান আরেফিন: মাত্র ১৩ বছরের বালক বিধান দাস। সদ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পাড় করেছে সে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের  কুনিহাড়ি  গ্রামের শ্রমজীবির বিমল কুমার দাসের ছেলে। কুনিহাড়ি গ্রামের হাওলাদার বাড়ির পুজা মন্ডপে তার তৈরি করা প্রতিমায় এবার প্রথমবারের মত দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে।

সরেজমিনে জানাগেছে, দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নামকরা মৃৎ শিল্পীরা ঝালকাঠিতে এসে প্রতিমা তৈরি করেন। আর গত ক’বছর ধরে বিধান তা মনযোগ সহকারে দেখে আসছিলো। এরপর একাগ্রতা নিয়ে গত বছর থেকে বিভিন্ন পূজার প্রতিমা তৈরি করছে সে। নিপূন হাতে ছোঁয়ায় তৈরি করেছে কালী, স্বরস্বতীসহ নানা প্রতিমা। প্রতিমা তৈরিতে কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই তার। অন্য কারিগরদের কাজ দেখেই শিখেছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কারুকার্য।

গত বছর বাড়ির আঙিনায় প্রথমবার দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে বিধান। তারপরই সবার নজরে আসে বিধানের এ শিল্পিপ্রতিভা। এবছর ক্ষুদে এই শিল্পী  দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে এলাকায় সারা জাগিয়েছে। বিধানের  তৈরি করা প্রতিমায় হাওলাদার বাড়িতে যথানিয়মে উৎসাহ উদ্দিপনায় দুর্গাপূজা  চলছে ধুমধামেই।

প্রতিমা কারিগর বিধান দাসের বাবা বিমল দাস জানান,  দু’বছর আগে ঝালকাঠি শহরের কালীবাড়ি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখে ছেলে প্রতিমা তৈরির কারিগর হওয়ার ইচ্ছা পোষন করে। বয়সে ছোট আর পারিবারিক আর্থিক সংকট থাকায় ছেলের এ ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। পরে নিজেই মাটি ও আনুসাঙ্গিক দ্রব্য জোগাড় করে এক পর্যায়ে গত বছর ঘরের বারান্দার দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে।

স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তা দেখে  দুই হাজার টাকা পুরস্কার দেন।আর এতে উৎসাহ বেড়ে যায় । এবছর  দুর্গাপূজার দুমাস আগ থেকেই বাড়ির আঙিনায় শুরু করে প্রতিমা তৈরির কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা তৈরি করা হলে প্রথমবারের মত সরকারি নির্ধারিত মন্ডপ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় হাওলাদার বাড়ি পূজা মন্ডপ। আর তাতে  মহাখুশি ক্ষুদে প্রতিমা কারিগর বিধান দাস ও স্বজনরা।

এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার বলেন, কোন ডাইস বা খর্মা ছাড়াই ছেলেটি নিজ হাতে কার্তিক, গনেশ, লক্ষী, স্বরস্বতী, মহিষাসুর ও দূর্গা মায়ের মুখমন্ডল তৈরি করেছে যা অভাবনীয়। কিশোর বয়সে তার প্রতীভা এতই নিখুঁত, পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে সে অনেক বড় কারিগর হতে পারবে।

কুনিহাড়ি গ্রামের হাওলাদার বাড়ির পূজা মন্ডপ পরিচালনার সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু চন্দ্র এদবর বলেন, প্রতিমা কারিগর বিধান দাসের আত্মবিশ্বাস ও সাহস দেখে আমরা হতবাক। তার প্রতিভা সত্যিই প্রসংশনীয়। পাল বংশের সন্তান না হয়েও কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিধান যে প্রতিমা তৈরির কারিগর হয়ে উঠছে তা স্যতিই বিরল ঘটনা। তাকে সঠিক ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা  করা হলে  নিজেকে আরো দক্ষ প্রতিমা শিল্পি হিসেবে তৈরি করতে পারবে বিধান।

হাওলাদার বাড়ির দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সঞ্জিব হাওলাদার জানান, এ মন্ডপের পুজায় অংশগ্রহনকারীরা বিগত বছর গুলোতে আশেপাশের বিভিন্ন মন্ডপে পুজা দিতো। প্রতিমা তৈরিতে মোটা অংকের টাকা খরচ হত বিধায় এখানে পূজা আয়োজন করা সম্ভব হত না। এবছর বিমল দাসের ছেলে বিধান  এত অল্পবয়সেই দক্ষ কারিগরের মত দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে পুজা আয়োজন করায় আমরা আনন্দিত। প্রত্যাশা করি সে  ভবিষ্যতে অনেক বড়  মৃৎ শিল্পি হয়ে গড়ে উঠবে।

আলাপকালে ক্ষুদে প্রতিমা কারিগর বিধান দাস বলে, আমি নিজ হাতে প্রতিমা বানাবো এটা আমার আশা ছিলো। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ও সকলের আশির্বাদে আজ আমি সফল হয়েছি। আমার তৈরি করা প্রতিমায় এ বছর হাওলাদার বাড়িতে প্রথম পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। এটা অনেক বেশি আনন্দের।

এদিকে মাত্র ১৩ বছর বয়সে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে পুজা উদযাপন করার খবরে দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে হাওলাদার বাড়ির পুজা মন্ডপে। ষষ্ঠী দিন থেকেই নানা বয়সের দর্শনাথীরা পুজা মন্ডপ ঘুরে দেখতে আসছেন। আর এত অল্প বয়সের কারিগরের হাতের নিখুত ছোঁয়ায় তৈরি প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ। কেউ কেউ প্রতিমা কারিগর বিধান দাসের সাথে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা আপলোড করে ক্ষুদে শিল্পী  বিধাওনর প্রতিভার কথা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

(হাসান আরেফিন/ডেস্ক/ঝাস)


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক : পলাশ রায়
১৪, রীডরোড, শহীদ স্মরণি, ঝালকাঠি ৮৪০০
ইমেইল : jhalokathisomoy@gmail.com
মুঠোফোন : ০১৭১২ ৫১ ৭৫ ৪৬
© All rights reserved © 2019
Developed BY : Website-open