১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং ।। মঙ্গলবার ।। ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। নিবন্ধনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় আবেদনকৃত অনলাইন পত্রিকা www.jhalokathisomoy.com

সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছাড়া যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন-সম্পাদক

ইতিহাসের নির্মম ১৪ ফেব্রুয়ারি আজ!

বাংলাদেশের ঐতিহাসের নির্মমতম এক ১৪ ফেব্রুয়ারি আজ। এ দিনটি ঐতিহাসিক ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’। ১৯৮৩ সালের এই দিনে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি বাতিল ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এরশাদের স্বৈরাচারী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা ছাত্র-জনতার রক্তে লাল হয় ঢাকার রাজপথ।গণগ্রেফতার আর নির্মম নির্যাতনের শিকার হন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এদিন কুখ্যাত মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ঢাকায় কলাভবনে বিশাল ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি দেয়ার উদ্দেশ্যে সচিবালয় অভিমুখে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কার্জন হল ও শিক্ষাভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ গুলি ছোঁড়ে। গুলিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে জাফর-জয়নাল-দিপালী সাহা। সর্বমোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। যদিও সরকারি হিসাবে বলা হয় মৃতের সংখ্যা মাত্র একজন।

আর সরকারি হিসাবেই গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ১৩৩১ জন। এ খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এ  আন্দোলনেযোগ দেয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে বাধ্য হয় স্বৈরাচারী সামরিক সরকার।

মূলত ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের নামে এরশাদ চেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনতে।

তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের অধিকারকে বিলোপ করে বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রণীত স্বায়ত্তশাসনের অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিলো কুখ্যাত মজিদ খানের ওই শিক্ষানীতিতে।

আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক শোকাহত এবং গুরুত্ববহ এই দিনটি সময়ের বিবর্তনে ১৪ ফেব্রুয়ারির ভ্যালেনটাইনস ডের জোয়ারে এখন যেন সবাই ভুলতেই বসেছে!

(সম্পাদক/ঝাস)


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক : পলাশ রায়
১৪, রীডরোড, শহীদ স্মরণি, ঝালকাঠি ৮৪০০
ইমেইল : [email protected]
মুঠোফোন : ০১৭১২ ৫১ ৭৫ ৪৬
© All rights reserved © 2019