১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ।। বৃহস্পতিবার ।। ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ।। নিবন্ধনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় আবেদনকৃত অনলাইন পত্রিকা www.jhalokathisomoy.com

সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছাড়া যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন-সম্পাদক

শিক্ষক দিবস পালন হোক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়

‘শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার, দিল্লীর পতি সে কোন্ ছার’ শিশুতোষ সাহিত্যে খ্যাতনামা কবি কাজী কাদের নেওয়াজ এর ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতার মধ্য ভাগের এই পঙতি আজ অনেকের কাছে অপরিচিত। ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশের শিক্ষা বিষয় সবচে জনপ্রিয় এবং গ্রহনযোগ্য অনলাইন পত্রিকা গতকাল থেকেই কবিতার এই পঙতিতে শিক্ষক সমাজকে শ্রদ্ধা জানায়। পত্রিকাটির দাপ্তরিক ফেসবুক পেজেও শেয়ার করে তা। আমিও সেখান থেকে কপি করে দৈনিক শিক্ষার সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস নিজের ফেসবুকে শেয়ার করি।তবে দু:খের বিষয় ওই স্ট্যাটাস শেয়ার করার পর আমাকে বেশ ক’জন ফোন করেন। জানতে চান ‘দিল্লীর পতি সে কোন্ ছার’ এর মানে কী ? আমার জানাতে হয় কবিতা, বোঝাতে হয় কবিতার বিষয় বস্তু। এই আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের মর্যাদার অবস্থা। হয়তো মর্যাদাযর প্রশ্নে বর্তমান সময়ের শিক্ষকদের আচরণকেই দায়ী করবেন অনেকে। সে ব্যপারে বলার আগে কবি কাজী কাদের নেওয়াজ সম্পর্কে একটু জানিয়ে রাখছি।

কাজী কাদের নেওয়াজ ১৫ জানুয়ারি, ১৯০৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন মুর্শিদাবাদ জেলার মাতুলায়ে।তিনি প্রেম ও পল্লীর শ্যামল প্রকৃতি কবি হলেও শিশুতোষ সাহিত্যে ছিলেন সবচে খ্যাতিমান।’মরাল’ তার সমাদৃত কাব্যগ্রন্থ।শিশুরঞ্জক গদ্য ‘দাদুর বৈঠক’ কাব্যগ্রন্থ ‘নীল কুমুদী’ এবং ‘দুটি তীরে’ নামে একটি উপন্যাসও রয়েছে তাঁর। পৈতৃক নিবাস বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট গ্রামে হলেও দেশ ভাগের পরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে ঢাকায় আসেন এবং নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন।এর আগেও তিনি শিক্ষকতাই করতেন। সর্ব শেষ ১৯৬৬ সালে দিনাজপুর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি জীবনের অবসর গ্রহণ করেন।১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং প্রেসিডেন্ট পুরস্কার পান।১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি এই শিক্ষক কবি বাংলার শ্যামল প্রকৃতি ছেড়ে শেষ বিদায় নেন। তবে রেখে যান তাঁর সু-সাহিত্যকর্ম আর শিক্ষাকতা জীবনের আদর্শ।

পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি না করে এবার সংক্ষেপে শেষ কথা শেষ করছি।দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বর্তমান সমাজে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার কোন শিক্ষক নেই। আমি মানছি বর্তমান সময়ে কতিপয় শিক্ষকের আচরণ দেশের শিক্ষক সমাজকেই কিছুটা বিতর্তিক করছে। তবে সবাই এক নয়। এখনও সমাজে ভাল শিক্ষক রয়েছেন।পিতা-মাতা সন্তান জন্ম দিয়ে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মানুষ হিসেবে মানুষকে জন্ম দেন একজন সু-শিক্ষক। তাই একটি দেশের শিক্ষা ও শিক্ষক সমাজকে সার্থক ও মর্যাদাযপূর্ন করা রাষ্টের প্রধান কর্তব্য। দুটোর কোনটাই তার মর্যাদা হারালে তার দ্বায়ভার সর্বপ্রথম রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়।তাই বিতর্ক কিংবা ব্যর্থতা থাকলেও রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে সমস্যা কিংবা সংকট সমাধানে।

আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস বিভিন্ন দেশে পালন করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে।কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, যেখানে আমাদের দেশে নানা দিবস ঘটা করে পালন করা হয়, সেখানে শিক্ষক দিবসে রাষ্ট্রীয় কোন আয়োজন নেই। শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘তরুণরাই এই পেশার ভবিষ্যৎ’। ইউনেস্কোর মতে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি। আমাদের বাংলাদেশেও সে উপলব্ধী থেকে, দায়বদ্ধতা থেকে, চেতনা থেকে এবং সর্বপরি শিক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস রাষ্ট্রীয় ভাবে পালন করবে, সেটাই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে  একান্ত কামনা।

লেখক: পলাশ রায়, সম্পাদক ঝালকাঠি সময়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক : পলাশ রায়
১৪, রীডরোড, শহীদ স্মরণি, ঝালকাঠি ৮৪০০
ইমেইল : jhalokathisomoy@gmail.com
মুঠোফোন : ০১৭১২ ৫১ ৭৫ ৪৬
© All rights reserved © 2019
Developed BY : Website-open