২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ।। মঙ্গলবার ।। ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। নিবন্ধনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় আবেদনকৃত অনলাইন পত্রিকা www.jhalokathisomoy.com

সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছাড়া যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন-সম্পাদক

ঝালকাঠিতে বন্ধ হচ্ছেনা বাল্যবিয়ে,প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামানা :নাসরিন আক্তার সারা

দিনদিন ঝালকাঠিতে বাল্যবিয়ে বেড়েই চলছে। এমনকি এই করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই আয়োজন। আর তা শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহরেও কমবেশি দেখা যাচ্ছে।কোন কোন ক্ষেত্রে দিনের আলোতে আয়োজন চলছে। আবার কেউ করছে রাতে লোকচক্ষুর আড়ালে।

আমি একজন স্বর্ণ কিশোরী। বাল্যবিয়ে বন্ধে অনেক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি।কেবল আমি একাই নয়, আমার সাথে আরও ভাই-বোনরা আছেন, যারা বাল্য বিয়ের খবর পেলেই সেখানে গিয়ে হানা দেয়। দিনের বেলায় আমরা বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে আসি। কিন্তু রাতে বিয়ে বিবন্ধন ছাড়াই আইন অমান্য করে হুজুর দিয়েই সেই বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে। সম্প্রতিও ঘটেছে এমনটি। খবর পেয়ে অসহায় বোধ করা ছাড়া আর যেন কিছুই করার থাকেনা।

আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় এই সব বাল্য বিয়ের আয়োজনে তথাকথিত শিক্ষিতরা এমনকী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দাওয়াত খেতে আসেন।অথচ সভা-সেমিনারে তারাই আবার বাল্যবিয়ে বন্ধে বক্তৃতা করেন।

আমরা চাই সুন্দর, সুস্থ ও নারী নির্যাতন মুক্ত একটি সমাজে বসবাস করতে। চাইনা চোখের সামনে শিশু মেয়ে-ছেলে এভাবে নিজেদের তথা দেশের ভবিষ্যত বিপদ ডেকে আনবে।বাল্য বিয়ের কারণেই গর্ভবতী মা, সদ্যজাত শিশু, কিংবা ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই শিশু ও মাতৃ মৃত্যু বেড়ে চলছে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তিবর্গের কাছে আমার মিনতি, বাল্যবিয়ে বন্ধে আপনাদের কঠোর অবস্থান হোক।

প্রশাসন ছাড়াও সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব বাল্য বিয়ে বন্ধে এগিয়ে আসা। পরিশেষে ঝালকাঠির সবার কাছে প্রত্যাশা, বাল্য বিয়ে বন্ধে আমারা যেন সবাই আন্তরিক এবং সোচ্চার হই।

লেখক: নাসরিন আক্তার সারা (স্বর্ণকিশোরী)

প্রচার সম্পাদক ঘাসফড়িং, ঝালকাঠি।

(লেখক/মতামতডেস্ক/ঝাস)


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক : পলাশ রায়
১৪, রীডরোড, শহীদ স্মরণি, ঝালকাঠি ৮৪০০
ইমেইল : [email protected]
মুঠোফোন : ০১৭১২ ৫১ ৭৫ ৪৬
© All rights reserved © 2019